২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা ও নয়া দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে এবার ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও নেপথ্য কারণ
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি খুনিকে ভারতে আশ্রয় প্রদান এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ‘কথিত ও অতিরঞ্জিত’ অভিযোগ তুলে ভারতের ক্রমাগত প্রোপাগান্ডা দুই দেশের উত্তেজনাকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খেলার মাঠেও। খেলোয়াড়ি পারফরম্যান্স নয়, বরং রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি ক্রিকেট বিশ্বকে হতবাক করেছে। এর প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা শঙ্কায় ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
ভিসা স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
বিসিবির অনড় অবস্থান এবং ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমি আমাদের তিনটি মিশনকে তাদের ভিসা সেকশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এটি মূলত নিরাপত্তাজনিত একটি ইস্যু।"
কূটনৈতিক সূত্র মতে, ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন, কলকাতার উপ-হাই কমিশন এবং আগরতলার সহকারী হাই কমিশনে এই ভিসা সেবা বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
কূটনৈতিক পাল্টা জবাব ও জনমত
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাং©|লাদেশের বর্তমান সিদ্ধান্ত ভারতের সেই নেতিবাচক আচরণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক পাল্টা জবাব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উভয় দেশের নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন পদক্ষেপ হিসেবে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
বুধবার থেকেই এই বিষয়ে গুঞ্জন চলছিল এবং একদিন পরেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া গেল। দুই প্রতিবেশী দেশের এই রুদ্ধশ্বাস কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।©|©|©|©|
