পটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও প্রাণনাশের চেষ্টা: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ভাই

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল এবং এক ব্যক্তিকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী গোপাল মাঝি ও তার বোনাই গুরুতর আহত অবস্থায় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে 



চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ​আহত গোপাল মাঝি জানান, মরিচবুনিয়া মৌজার জে.এল নং-৬৭ এর ৪৭৩ ও ৪৭৪ নং খতিয়ানে অবস্থিত তার নিজস্ব রেকর্ডীয় ৪০ কাঠা জমি দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র দখলের চেষ্টা করে আসছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করার পর থেকে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি তার সন্তানদের স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া এবং ‘দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার’ মতো সাম্প্রদায়িক হুমকিও প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

​হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী তাদের ঘেরাও করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় তাকে ও তার বোনাইকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সন্ত্রাসীরা তার সাথে থাকা নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং গলায় থাকা দুই ছড়া স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

​ভুক্তভোগী এই ঘটনায় ৭ জন নামীয় এবং আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— জাকির ভূঁইয়া, সুমন প্যাদা, নাসির আকন, খালেক প্যাদা, হারুন মাতবর, জাফর ভূঁইয়া ও নিজাম প্যাদা।



গোপাল মাঝি আক্ষেপ করে বলেন, “থানায় অভিযোগ করেও আমরা নিরাপত্তা পাচ্ছি না। আমরা নিজ দেশে পরবাসীর মতো থাকছি। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা এবং এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”


​এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। হামলার ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post