গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খানসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতা বলেন, 'পুলিশ আমাদের মারধর করে উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা করছ’।
আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ওসি ও ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি থানার বাইরে গিয়ে তার সমর্থকদের ডেকে আনে। এরপর ৮-১০ জনের একটি দল থানায় ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসি, এএসআইসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহতদের মধ্যে এএসআই রুহুল আমিন, রাসেল, ছানোয়ারসহ ৭ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগ জানান, 'রাত ১০টার দিকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
ঘটনাটিকে 'দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত' হিসেবে উল্লেখ করে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারী বলেন, রাতে যুব জামায়াতের নেতা পলাশের নেতৃত্বে ৮-১০ জন থানায় এসে এই হামলা চালায়।এছাড়া থানার বাহিরে গেটের হামলাকারীদের লোকজন ২০০-২৫০ জন উপস্থিত ছিল। পরে গাইবান্ধা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের জেরে যুব জামায়াতের নেতা পলাশ থানায় এসে ওসিকে দোকানে তালা দিতে চাপ দেন এবং চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। এতে আপত্তি জানালে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয় এবং এক পর্যায়ে ওসির ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ারে আলম খান বলেন, 'রাতে কিছু লোক লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসে। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা চাপ সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে তারা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে আমিসহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হই।'
তিনি আরও জানান, 'ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।'
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতা বলেন, 'পুলিশ আমাদের মারধর করে উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে’।
এদিকে, ঘটনার পর গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু),সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
