মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই প্রবল বাধার মুখে পড়েছে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে এবার কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, বরং প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আয়োজক দেশ ভারতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ে দেশটিতে বিশ্ব আসর বসা নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।
মহামারীর সতর্কবার্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কলকাতা সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতাল। সেখানে ইতিমধ্যে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় শতাধিক ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন হাসপাতালের একজন সেবিকাও।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (AIIMS) সভাপতি ডা. নরেন্দ্র কুমার এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সংক্রমণের হার খুব দ্রুত ১০০ থেকে ২০০ জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেহেতু এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক নেই, তাই এটি কোভিড-১৯ এর মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এশিয়ার দেশগুলোতে জরুরি সতর্কতা
ভারতে এই ভাইরাসের বিস্তারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো। থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ভারত থেকে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আন্তর্জাতিক যাতায়াতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি: ভেন্যু হোক শ্রীলঙ্কা
ভারতের এই নাজুক পরিস্থিতির সুযোগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে পাকিস্তান। দেশটির সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। খেলোয়াড়দের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে পুরো টুর্নামেন্টটি ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এমন জোরালো অবস্থান থাকলেও বিশ্বকাপের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব আসর
যদি নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং এটি মহামারীর রূপ নেয়, তবে ভারতে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি এবং আয়োজক দেশ ভারত এই বিপর্যয় মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।
