‘৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নিয়ে ভারত যান মাহদী হাসান



বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ঘিরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়টি। ভারতের রাজধানীতে অবস্থানকালে তার কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার অভিযোগ ঘিরেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।



গত মঙ্গলবার দিল্লির কনট প্লেসে একটি ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে যান মাহদী হাসান। সেখানেই কেউ তাকে শনাক্ত করে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে।



বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলা দুটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, হাসান দিল্লিতে আসার সময় ভবিষ্যৎ খরচের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি সঙ্গে এনেছিলেন, যার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ৪০ লক্ষেরও বেশি। যদিও আরেকটি সূত্র অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেনি।



মঙ্গলবার সকাল থেকেই তার কাছে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে একাধিক অজানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। একটি সূত্র জানায়, ‘মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ মাহদী হাসানকে চিহ্নিত করা যায়। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে খবর পেয়ে যাই। সেই সময়েই পর পর তার কাছে ভারতীয় আর বাংলাদেশের নানা নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। সেই সব ফোন কারা করছিল, সেটা বলব না, কিন্তু তখনই মাহদী হাসান আন্দাজ করে যে কোথাও একটা গন্ডগোল হয়েছে।’




পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে তিনি পাহাড়গঞ্জের হোটেল ছাড়েন এবং বিমানবন্দরের কাছাকাছি অন্য একটি হোটেলে ওঠেন। রাতেই তার জন্য দিল্লি-ঢাকা ইন্ডিগোর টিকিট পৌঁছে দেয়া হয়।


সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—ভারতবিরোধী বক্তব্য, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করার দাবি এবং ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য।


একটি সূত্র বলেছে, ‘আমাদের তিনটে পয়েন্ট ছিল। প্রথমত সে ভারতকে অপমান করেছে, কটূ কথা বলেছে। দ্বিতীয়ত সে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছে, তাই সে একজন সন্দেহভাজন ক্রিমিনাল। তৃতীয় পয়েন্টটাই সবথেকে গুরুত্ব পেয়েছে আমাদের কাছে, সে একজন হিন্দু অফিসারকে মেরেছে বলে দাবি করেছে। এত কিছুর পরেও সে দিল্লিতে আসবে আর এখান থেকে অন্য কোনো দেশে চলে যাবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব?’


বুধবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতিকালে তাকে নিরাপত্তা চেকিং লাইন থেকে সরিয়ে প্রায় আধঘণ্টা জেরা করা হয়। তবে দুটি সূত্রই বলেছে, তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়নি।


বাংলাদেশে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাহদী হাসান অভিযোগ করেন, ‘আমাকে এসএডি লিডার, বৈষম্যবিরোধী নেতা বলে আটক করা হয়েছিল। তারপর হচ্ছে আমাকে প্রচণ্ড হ্যারাস করা হয়েছে। আমি ফুল লাইফ রিস্কে ছিলাম।’


ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি তা অস্বীকার করেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘গুজব’।


দিল্লিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বহনের অভিযোগ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিমানবন্দরে জেরা— সব মিলিয়ে মাহদী হাসানকে ঘিরে ঘটনা এখনো সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।





Post a Comment

Previous Post Next Post