ফ্যামিলি কার্ড পাবেন কীভাবে? আবেদনের নিয়ম ও যা লাগবে



দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদান।

সুবিধাভোগীদের জন্য বিশেষ চমক

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাসিক ভিত্তিতে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগের একটি অনন্য দিক হলো, সহায়তার টাকা সরাসরি পরিবারের নারী অভিভাবক বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবারের আর্থিক সমস্যার সমাধান হবে, অন্যদিকে নারীর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত হবে। উল্লেখ্য যে, এই ফ্যামিলি কার্ডের ভাতার পরিমাণ প্রচলিত অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতার চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি হবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডেটাবেস

কার্ড বিতরণে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি না হয়, সেজন্য সরকার শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার (Database) তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে যাবে। প্রাথমিকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এই কার্যক্রম শুরু হবে, যা সফল হলে পরবর্তী ধাপে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

আবেদনের প্রাথমিক প্রস্তুতি: যা সাথে রাখতে হবে

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে কিছুটা সময় থাকলেও, আগ্রহীদের আগেভাগেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবেদনের ক্ষেত্রে মূলত নিচের তিনটি বিষয় প্রয়োজন হবে:

১. আবেদনকারীর অরিজিনাল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।

২. সম্প্রতি তোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. যোগাযোগের জন্য একটি ব্যবহৃত সচল মোবাইল নম্বর।

কোথায় ও কীভাবে পাওয়া যাবে কার্ড?

পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। নাগরিকরা নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর অফিস থেকে সরাসরি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি শক্তিশালী অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদনের সুযোগ মিলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি পরিবারের অনুকূলে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমেই নিয়মিত বিরতিতে নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী গ্রহণ করতে পারবেন তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা।

Post a Comment

Previous Post Next Post