তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির বিশেষ চিঠি, জানা গেল কী লিখা আছে তাতে



বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাতুর হয়ে এক আবেগঘন বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক ব্যক্তিগত পত্রে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন। চিঠিতে মোদি প্রয়াত নেত্রীকে অদম্য সংকল্প এবং গভীর বিশ্বাসের এক অননন্য প্রতীক হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন।

৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) রাজধানী ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠির সারাংশ ও পূর্ণ বয়ানটি জনসমক্ষে আনে।

উন্নয়নের কারিগর ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন

নরেন্দ্র মোদি তার পত্রে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া শুধু দেশমাতৃকার উন্নয়নই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মৈত্রীর বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশে মোদি লেখেন,

“আপনার পরম শ্রদ্ধেয় মা এবং বিএনপির প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে আমি মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আমি প্রার্থনা করি, তাঁর বিদেহী আত্মা চিরন্তন শান্তি লাভ করুক।”

অমলিন স্মৃতি: ২০১৫ সালের সেই ঢাকা সফর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের জুন মাসে তাঁর ঢাকা সফরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল, তা আজও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতিতে অমলিন। পত্রে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেত্রী যিনি নিজের আদর্শ ও বিশ্বাসে ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে বিশেষ বার্তা

চিঠির একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি নরেন্দ্র মোদির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,

“আমি বিশ্বাস করি, আপনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার গৌরবময় উত্তরাধিকার বজায় রাখবে। আমি আশা রাখি, সামনের দিনগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব এক নতুন দিগন্ত স্পর্শ করবে।”

শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জয়শঙ্করের ঝটিকা সফর

এই শোকবার্তাকে নিছক একটি চিঠি নয়, বরং একটি বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ৩০ ডিসেম্বর লেখা এই চিঠিটি বুধবার দুপুরে সশরীরে তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। খালেদা জিয়ার প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে জয়শঙ্কর এদিন বিশেষ বিমানে ঢাকায় অবতরণ করেন এবং জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি

চিঠির শেষাংশে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং সংহতির পথ ধরে শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। এই জাতীয় শোকের দিনে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের পাশেই আছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post